হাওজা নিউজ এজেন্সি: “শহীদ নেতার ব্যক্তিজীবনের স্মৃতি” শীর্ষক এ আলোচনায় তিনি নেতার সরল জীবনযাপন, শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, হক্কুন নাসের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং ব্যক্তিগত ব্যয়-ব্যবস্থাপনায় তাঁর সতর্কতার নানা দিক বর্ণনা করেন।
শিক্ষকের প্রতি অনন্য শ্রদ্ধা
আবদুররহিমি জানান, মরহুম আয়াতুল্লাহ মুজতাহেদী (রহ.) ছিলেন শহীদ নেতার সন্তানদের শিক্ষক। একদিন তাঁর সঙ্গে নেতার একটি সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নেতার সন্তানরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে নেতা নিজে আয়াতুল্লাহ মুজতাহেদীর সঙ্গে হেঁটে প্রধান ফটক পর্যন্ত যান এবং তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানান।
খালি পায়ে শিক্ষকের সঙ্গ
তিনি আরও বলেন, নেতার পুত্র হাজ্ব আকা মুজতাবা যেন তাঁর পিতা ও শিক্ষকের অপেক্ষার কারণ না হন, সে জন্য দ্রুত খালি পায়েই তাঁদের সঙ্গে প্রধান ফটক পর্যন্ত যান।
আবদুররহিমি বলেন, পরে নেতা আঙিনায় সন্তানদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তোলার কথা বললে তিনি লক্ষ্য করেন যে হাজ্ব আকা মুজতাবা পুরো পথটিই খালি পায়ে অতিক্রম করেছিলেন।
একটি ক্যাসেট এবং হক্কুন নাসের প্রতি অসাধারণ সতর্কতা
আরেকটি স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুররহিমি বলেন, একবার নেতা তাঁর উচ্চতর ধর্মীয় পাঠের (দারসে খারিজ) অডিও রেকর্ডিং পাঠাতে বলেন। রেকর্ডিং পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই তিনি জানতে চান, “এই ক্যাসেটের মূল্য কত? আমি এটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছি, তাই এর দাম আমাকে পরিশোধ করতে হবে।”

আবদুররহিমি বলেন, প্রথমে তাঁদের মনে হয়েছিল বিষয়টি হয়তো পরে আর মনে থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, নেতা বারবার এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন এবং প্রায় দশবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, যাতে ক্যাসেটের মূল্য যথাযথভাবে পরিশোধ করা যায়।
তাঁর ভাষায়, “অনেকের কাছে হাক্কুন নাস মানে বড় কোনো বিষয়। কিন্তু নেতার কাছে একটি সাধারণ ক্যাসেটের মূল্যও এমন অধিকার, যা উপেক্ষা করা যায় না।”
সরাসরি নয়, ইঙ্গিতে সংশোধন
আবদুররহিমি বলেন, নেতার পাঠচক্রে কখনো কখনো এমন কিছু ব্যক্তি উপস্থিত হতেন, যাঁদের দাড়ি কামানো থাকত এবং যাঁরা পাশ্চাত্যধর্মী আনুষ্ঠানিক পোশাকে আসতেন। নেতা তাঁদের প্রকাশ্যে তিরস্কার করতেন না; বরং পরোক্ষভাবে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতেন। একবার তিনি দপ্তরের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেছিলেন, “এই ভদ্রলোকেরা এত বেশি দাড়ি কামান কেন?”
একটি খেজুরগাছের ফলের হিসাবও ভুলতেন না
প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেতার সতর্কতার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন আবদুররহিমি। তিনি বলেন, একদিন নেতা বাগানের কর্মী মি. তাকিয়ানকে স্মরণ করিয়ে দেন যে বাগানে লাগানো একটি খেজুরগাছ ফল দিয়েছিল এবং শিশুরা সেই ফল খেয়েছিল। এরপর তিনি নির্দেশ দেন, ওই ফলের মূল্যও যেন হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আবদুররহিমির মতে, এটি ছিল সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের প্রতি নেতার দায়িত্ববোধ এবং আর্থিক স্বচ্ছতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
‘মিসলে খোমেনি’ শিবির
উল্লেখ্য, ‘মিসলে খোমেনি (রহ.)’ শীর্ষক এ শিবিরটি তরুণ তালিবুল ইলমদের জন্য আয়োজিত একটি জ্ঞানমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—বিপ্লব-উত্তর যুগের আলেমের পরিচয় ও জীবনধারা, ইমাম খোমেনি (রহ.) ও শহীদ নেতার আদর্শিক ব্যক্তিত্ব, এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সংগ্রামী দর্শন সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের গভীরতর ধারণা প্রদান। শিবিরটি ‘খানে-য়ে তালাবে জওয়ান’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আপনার কমেন্ট